১৭টা বছর পার করে দিলাম জীবনের । নিজের মধ্যেই নিজে অনুভব করি অনেক কিছু পরিবর্তনের । কি পেলাম এই জীবনে ?? পাওয়া না পাওয়া মিলেই তো জীবন । আমি ব্যক্তিগত হিসাবে যে ভাবে মানুষ হতে চেয়েছি তার একটুও হয়নি । না , কোনো কিছুতেই কম করেননি আমার বাবা-মা । সেদিক থেকে হিসাব করলে অবশ্য একটু বেশিই পেয়েছি । কিন্তু তারা আমাকে বোঝেননি । তারা আমাকে সবসময় ছোট ভেবে গিয়েছেন । আমার মনে হয় তাদের কাছে আমি বড় হব না , চিরকাল ছোট থেকে যাব ।
প্রতিটা ছেলে-মেয়েদের মত আমারো বড় হয়ে কিছু হওয়ার শখ ছিল । কিন্তু আমার বাবা-মা আমাকে বোঝেননি । তাদেরও কিছু আশা ছিল যে , তাদের ছেলে বড় হয়ে তাদের আশানূযায়ী কিছু হবে , যেটা প্রতি বাবা-মাদেরই থাকে । এদিক থেকে ইউরোপিয়ান বাব-মা খুব ভাল । তাদের থাকে না কোনো আশা । তাদের কথা হল : ছেলের জীবন , ছেলেই বুঝবে সে বড় হয়ে কি করবে ।
ছোটবেলা থেকেই একটা বড় ভাই অথবা একটা ছোট বোন চেয়েছি । কিন্তু কি করে আমার আশা পূরণ হবে ?? আমিই তো তাদের বড় ছেলে । তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর জন্য চেয়েছি একটা ছোট বোন অথবা একটা ছোট ভাই । কিন্তু আমার বাবা-মার কথা হচ্ছে : তুই তো আমাদের ছেলে , আবার তুই আমাদের মেয়ে । আমরা তো খুব সুখেই আছি । তাহলে কিসের জন্য দরকার আরেকটা ভাই অথবা বোন ?? এর উপরে আর কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না ।
আল্লাহ যে , প্রতিটা মানুষকে একি ভাবে স্ষ্টি করেননি সেটা কোরআনেই উল্লেখ আছে । কেউ খুব ব্রেনি আবর কেউ পড়ালেখাতে খুব খারাপ । আমি এমন মানুষ ও দেখেছি যারা অনেক পড়ালেখা করেও যা করতে পারেননি সেই কাজ করেছেন কম পড়ালেখা মানুষটি । কিন্তু ২য় ছেলেটির বাবা-মার দুঃখ হচ্ছে সে বেশি পড়াশোনা করেনি । এর জন্য দুঃখের কি আছে সেটাই তো আমার মাথায় আসে না ।
আর কিছু ভাল লাগে না । ঘরের মধ্যে শুয়ে এইসব চিন্তা করছি । বারান্দা থেকে আম্মু এবং আমার আন্টির ( আমার বন্ধুর মা ) গলা শোনা যাচ্ছে । কথার মাঝখানে আমার মা গলার স্বর নিচু করে ফেললো হঠাৎ করে । কউতুহল বসত খুবই শোনার ইচ্ছা হল কি বলছে তারা । দরজার আড়ালে যেয়ে দাড়ালাম ।
----- শাওনের যখন জন্ম হয় , তখন ডাক্তার বলে যে , শাওন যত বড় হবে ততই তার ব্রেন লোপ পেতে থাকবে । কথাটা শুনে আবার খাটে যেয়ে শুয়ে পড়লাম ।
মাগরিবের আযান দিয়েছে । নামাজ পড়তে চলে গেলাম মসজিদে । নামাজ পড়ে চাচাত ভাইকে সাথে নিয়ে চলে গেলাম মাইকেলের কপোতাক্ষর কোণে । চাঁদ উঠেছে । সুন্দর চাঁদ । চোখ দিয়ে দুই ফোটা নোনা পানি বেয়ে পড়ল । চাঁদের আলোতে চিকচিক করে উঠলো চোখের পানি । পাশে দাড়ানো চাচাত ভাই বললো : ভাইয়া তোমার চোখে পানি কেন . . . ???
Saturday, 17 March 2007
Friday, 16 March 2007
ছাঁয়া কন্যার শান্তির ছাঁয়া
আমি যখন মারা গেলাম তখন সন্ধ্যা ৭টার কিছু বেশি । আকাশটা ধুসর নীল । বিকাল থেকে বুক ব্যাথা করতেছিলো । হঠাৎ করে চলে গেলাম দূনিয়া থেকে ।
আমার আত্মাটা এখনো ঘরের ভেতর আছে । প্রিয়জনরা কাঁদছে দেখলাম । সারা বিশ্ব জেনে গিছে । চারদিক খবর পাঠানো হয়েছে । গ্রামের বাড়ী মানুষ পাঠানো হয়েছে পারিবারিক কবরাস্থানে সাড়ে ৩ হাত মাটি খোড়ার জন্য ।পারিবারিক মানুষ আসা শুরু করেছে বাসায় । আমার লাশকে একটু পর গোছল করাবে শুনলাম । মসজীদ থেকে খাটিয়া আনছে । হুজুর আসছে ।
রাত ১২টা কয়েক মিনিট । কে যেনো বললো ফজরের নামাজের পর কবর দেওয়া হবে । এর মধ্যে পরিবারের মানুষ এসে যেন শেষবারের মত আমার মুখটা দেখতে পায় ।
আমার শরীরকে গোছল দেওয়া হলো । সাদা কাপড় পড়ানো হয়েছে । ধুপের গন্ধ বের হচ্ছে । গোলাপ জল ছিটালো কে যেনো ।
এতজন ছেড়ে আমাকে চলে যেতে হবে । খারাপ লাগছে । খুবই খারাপ । কান্না আসার মত খারাপ । আমার এক বন্ধু রেগে গেলে কান গরম হয়ে যায় । আরেকটু ফর্সা হলে হয়ত লাল হয়ে যেতো । দরকার নাই ফর্সা হওয়ার । যেমন আছে তেমনই ভালো । আযান দিছে ফজরের শুনলাম । কি মধুর কন্ঠ ।
আমকে আরেকটু পর খাটিয়াতে উঠাবে । আমি মাটির নিচে থাকবো কি করে ? আমার তো দম বন্ধ হয়ে যাবে । সাপ আসবে । উফফ , চিন্তা করতে চাচ্ছি না ।
. . . আমাকে কবর দিয়ে সবাই চলে গিয়েছে । আমার পেট ব্যাথা করছে । ভয় পেলে পেট ব্যাথা করে ।
. . . কয়েকদিন পরের কথা . . . আকাশে চাঁদনী রাত । ঐ গাছটার পাতার ফাক দিয়ে আলো পড়েছে আমার কবরের উপর । হঠাৎ একটা ছায়া পড়লো কবরের উপর । ছায়া কন্যার ছায়া । আমি জানতাম সে আসবে ।
আমি এভাবেই ঘুমিয়ে থাকবো । ছায়াকন্যার শান্তির ছায়ায় চিরকাল . . .
আমার আত্মাটা এখনো ঘরের ভেতর আছে । প্রিয়জনরা কাঁদছে দেখলাম । সারা বিশ্ব জেনে গিছে । চারদিক খবর পাঠানো হয়েছে । গ্রামের বাড়ী মানুষ পাঠানো হয়েছে পারিবারিক কবরাস্থানে সাড়ে ৩ হাত মাটি খোড়ার জন্য ।পারিবারিক মানুষ আসা শুরু করেছে বাসায় । আমার লাশকে একটু পর গোছল করাবে শুনলাম । মসজীদ থেকে খাটিয়া আনছে । হুজুর আসছে ।
রাত ১২টা কয়েক মিনিট । কে যেনো বললো ফজরের নামাজের পর কবর দেওয়া হবে । এর মধ্যে পরিবারের মানুষ এসে যেন শেষবারের মত আমার মুখটা দেখতে পায় ।
আমার শরীরকে গোছল দেওয়া হলো । সাদা কাপড় পড়ানো হয়েছে । ধুপের গন্ধ বের হচ্ছে । গোলাপ জল ছিটালো কে যেনো ।
এতজন ছেড়ে আমাকে চলে যেতে হবে । খারাপ লাগছে । খুবই খারাপ । কান্না আসার মত খারাপ । আমার এক বন্ধু রেগে গেলে কান গরম হয়ে যায় । আরেকটু ফর্সা হলে হয়ত লাল হয়ে যেতো । দরকার নাই ফর্সা হওয়ার । যেমন আছে তেমনই ভালো । আযান দিছে ফজরের শুনলাম । কি মধুর কন্ঠ ।
আমকে আরেকটু পর খাটিয়াতে উঠাবে । আমি মাটির নিচে থাকবো কি করে ? আমার তো দম বন্ধ হয়ে যাবে । সাপ আসবে । উফফ , চিন্তা করতে চাচ্ছি না ।
. . . আমাকে কবর দিয়ে সবাই চলে গিয়েছে । আমার পেট ব্যাথা করছে । ভয় পেলে পেট ব্যাথা করে ।
. . . কয়েকদিন পরের কথা . . . আকাশে চাঁদনী রাত । ঐ গাছটার পাতার ফাক দিয়ে আলো পড়েছে আমার কবরের উপর । হঠাৎ একটা ছায়া পড়লো কবরের উপর । ছায়া কন্যার ছায়া । আমি জানতাম সে আসবে ।
আমি এভাবেই ঘুমিয়ে থাকবো । ছায়াকন্যার শান্তির ছায়ায় চিরকাল . . .
Subscribe to:
Posts (Atom)
